হৃদয়ের কথা পর্ব-৪১; খাদ্য গ্রহণের নিয়মবিধি সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে গেলে শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই চলবে না। খাদ্যকে সুন্দরভাবে সময় নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে খেতে হবে। বর্তমান যান্ত্রিকতার যুগে আমরা সবসময় ব্যস্ত। বাজার করা, ট্রেন ধরা, অফিসে পৌঁছানো ... সব কিছুতেই তাড়া। স্নান করে কোনোমতে মুখে গুঁজে কর্মস্থলের দিকে দৌড়। শরীর সুস্থ রাখতে হলে বাকি কাজগুলি তাড়াতাড়ি সেরে খাওয়ার ব্যাপারে সময় দিতে হবে। প্রথমত খাদ্য যদি ভালোভাবে চিবানো না হয় তাহলে খাদ্যগুলি বড়ো বড়ো টুকরোতেই থেকে যায়। পৌষ্টিকতন্ত্রের উৎসেচকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারে না। পরিপাককার্য বাধাপ্রাপ্ত হয়। যেমন-রান্নার আগে সুসেদ্ধ হওয়ার জন্য সবজি ছোটো ছোটো টুকরোতে কেটে রান্না করতে হয়; এটিও সেই একই ব্যাপার। আমাদের মুখের মধ্যে তিনজোড়া লালাগ্রন্থি আছে। (১) প্যারোটিড গ্রন্থি (Parotid gland) (২) সাব ম্যাক্সিলারি বা সাব ম্যান্ডিবিউলার গ্রন্থি (Sub-maxillary or Sub Mandibullar gland) (৩) সাব লিঙুয়্যাল গ্রন্থি (Sub Lingual gland)। আমরা যে খাদ্য খাই তা চিবানোর সময় মুখের গ্রন্থি নিঃসৃত রস খাদ্যকে পরিপাক করতে চ...
continue reading →হৃদয়ের কথা পর্ব-৪৪; শেষ কথা; ডাঃ পার্থপ্রতিম। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক বাগবিস্তার এখন থাক্। আসলে গভীরভাবে উপলদ্ধি করলে বোঝা যায় লাব্-ডুব্ থেমে যাওয়া মানেই জীবনের শেষ নয়। জীবন অনেক বড়ো, সীমা থেকে অসীমের পানে ধাবমান। মৃত্যুর পরেও এ প্রাণের রেশ থেকে যায় যুগ-যুগান্তরে। শ্রীমদ্ভাগবদগীতার সাংখ্যযোগে আছে- ‘‘নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ...”, ‘‘ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।” আমরা যুক্তিবাদীরা একথা স্বীকার করি, তবে অন্যভাবে। টমাস আলভা এডিসন যেমন আজও স্বপ্রভ বিজলী বাতির রোশনাইয়ে, বেঞ্জামিন মোলাইসের তোলা সুর যেমন এখনো ভেসে বেড়ায় কালো মানুষের উদাত্ত কন্ঠে, হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বীতে তথাগত যেমন মিশে আছে ঐ শ্বেত কপোতের ডানায় ডানায়.....। যা কোনো আগুনেই খাক্ হয় না। কোনো অস্ত্র দ্বারাই যে গৌরবকে ছিন্ন-ভিন্ন করা যায় না। হ্যাঁ বন্ধু, তোমাকেই বলছি, সৃজনশীল মনের সাথে তোমারও থাক্ না একটি বলিষ্ঠ হৃদয়। প্রতিটি মুহুর্ত হোক নীরোগ, কর্মমুখর। বছর-মাসের সীমাবদ্ধ সালতামামি ছাপিয়ে তোমারও জীবন হয়ে উঠুক কালজয়ী। তবেই না সার্থক হবে আম...
continue reading →হৃদয়ের কথা পর্ব-৪২; হৃদরোগীর মদ্যপান এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায় পরিমিত মদ্যপান হৎপেশিকে ভালো রাখে। অ্যালকোহল রক্তে হাইডেনসিটি লাইপো প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে হার্টকে সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে অ্যালকোহল স্নায়ুতন্ত্রের কাজটা শিথিল করে বলে ঘুম ভালো হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই দু’পেগ-এর বেশি মদ্যপান করবেন না। অ্যালকোহলে শক্তির পরিমাণ বা টিসুক্যালোরি বেশি থাকে, তাই মদ খেলে দেহে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে। যা অনেক সময় মেদ বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিম দেশগুলিতে দেখা যাচ্ছে, তুলনামূলকভাবে শনি-রবিবার বেশি হার্ট অ্যাটাক হয়। এই ঘটনার এখন নামকরণ হয়েছে ‘উইক এন্ড হার্ট অ্যাটাক’। সপ্তাহের কাজের শেষে আকণ্ঠ মদ্যপান এই ‘উইক এন্ড হার্ট অ্যাটাক’-এর কারণ। বেশি পরিমাণ মদ খেল ব্লাডপ্রেসার ও হৃদস্পন্দনের হার দুটিই বেড়ে যায়। এই দুই-এ মিলে আচমকা হৃৎপিন্ডকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। মদ বিভিন্ন রকমের হুইস্কি, ব্যান্ডি, বিয়ার, স্যামপেন... আরো কত কী। তবে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চরক্তচাপ আছে তারা যদি একান্তই মদ খেতে চান ...
continue reading →বাইপাস ও মিনিবাইপাস; ডাঃ পার্থপ্রতিম। ২৭ শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৯; পৃষ্ঠা -তিন; দৈনিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত মানুষের চলার পথে আসে বিভিন্ন ধরনের বাধা-বিপত্তি। সব বাধা টপকে বা এড়িয়ে এগিয়ে চলাই জীবন। আমাদের প্রাণভ্রমরা হৃদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু বাধা দেখা দেয়। অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ফলে করোনারি ধমনীর সরু হলে বা বুজে গেলে হৃৎপেশিতে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। ফলে হৃৎপেশিতে অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাব হয়, দেখা দেয় বহু উপসর্গ। করোনারি ধমনী বাইপাস অপারেশনের সময় এই রুদ্ধ পথকে এড়িয়ে অন্য পথ তৈরি করা হয়। বুকের ইন্টারন্যাল ম্যামারি ধমনী বা পায়ের শিরা কেটে এনে সূক্ষ সেলাই-এর সাহায্যে তৈরি করা হয় রক্ত চলাচলের বিকল্প রাস্তা। ব্যস্ত শহরের যানজট এড়িয়ে দ্রুত চলাচলের জন্য শহরের বাইরে দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বাইপাস রাস্তা থাকে। করোনারি ধমনীর বাইপাস অপারেশন অনেকটাই সেই রকম। আমাদের বুকের খাঁচার দু’পাশে রয়েছে ইন্টারন্যাল ম্যামারি আর্টারি। বাম দিকে রয়েছে লেফ্ট ইন্টারন্যাল ম্যামারি আর্টারি (Left Internal Mammary Artery সংক্ষেপে LIMA ) এবং ডান দিকে ...
continue reading →হৃদরোগীর যৌন জীবন; ডাঃ পার্থপ্রতিম। ১১ই অক্টোবর ১৯৯৯; পৃষ্ঠা -তিন; দৈনিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত জীবনটাই হলো একটি সংগীত। এত আভোগ আছে, স্থায়ী আছে। আছে অন্তরা সঞ্চারী। কে না জানে-অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের প্রাথমিক চাহিদা। তারপরেই আসে যৌন আকাঙ্খা পূরণের প্রয়াস। হৃদরোগীর যৌন আচরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হৃদরোগীর যৌন জীবন নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সুইম্যান (Dr. Scheimann) জোর গলায় বলেছেন-“যৌন মিলন হৃদরোগীর কাছে একটি সুন্দর ব্যায়াম।” অন্যদিকে একদল কার্ডিওলজিস্ট বলেন-“যৌন মিলনের সময় হৃদয়ের স্পন্দন স্বাভাবিক অবস্থা থেকে দ্রুত হয়, হৃদযন্ত্রকে বেশি পরিমাণ রক্ত সারা দেহে সরবরাহ করতে হয়। তাই যাদের ইস্কিমিক হার্ট বা করোনারি হার্ট ডিজিজ আছে, তাদের এ সময় সাবধানতা অবলম্বন কার উচিত।” বিভিন্ন সমীক্ষা চালিয়ে তারা যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা থেকে জানা যায়- যৌন মিলনের দু’ঘন্টা পরে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রায় দ্বি-গুণ। তবে যে সব হৃদরোগী প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ ...
continue reading →হার্ট ব্লক ও জীবনদায়ী পেসমেকার; ডাঃ পার্থপ্রতিম। ২0 শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৯; পৃষ্ঠা -তিন; দৈনিক বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের হৃদযন্ত্রের ডান অলিন্দের প্রাচীরে রয়েছে একটি ছোট্ট ডিম্বাকৃতি অঞ্চল। সেখানে তৈরি হয় বৈদ্যুতিক তরঙ্গ। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে সাইনো-অরিকুলার পর্ব (Sino Auricular Node সংক্ষেপে S.A. Node)। এর আর একটি প্রচলিত নাম পেসমেকার (Pace maker)। এখান থেকে আসা তড়িৎ তরঙ্গের প্রবাহে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় আমাদের হৃদয়। সেদিক দিয়ে দেখলে এস.এ.নোডকে একটি জেনারেটর বলা যেতে পারে। জেনারেটারের বৈদ্যুতিক প্রবাহ যেমন তারের মধ্য দিয়ে আসার ফলে নির্দিষ্ট বেগে পাখা ঘোরে, ঠিক তেমনই হৃৎপেশিও নির্দিষ্ট ছন্দে চুপসে যায় ও প্রসারিত হয়। ডান ও বাম অলিন্দ স্পন্দিত হয় এস.এ. পর্বের বৈদ্যুতিক সংকেতে। তবে যেহেতু এটি ডান অলিন্দে রয়েছে, তাই বাম অলিন্দ ডান অলিন্দের চেয়ে সামান্য পরে সংকুচিত হয়। ডান অলিন্দের নিচের দিকে ট্রাইকাসপিড ভালভের কাছে রয়েছে আরো একটি বিশেষ স্থান; যাকে বলে অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকিউলার নোড (Atrio-Ventricular Node সংক্ষেপে A.V. Node)। এস.এ.নোড থেকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ এ.ভি. নো...
continue reading →Dr. Parthapratim. He exposes himself in such name i.e. without surname. This is his first revolt against such caste, creed and religion of so called society. Since the very boyhood he has been integrally attached with various scientific movement. He actively takes part in different Health and Science seminar bot
Read More →