জলপাইঃ আরও; -ডাঃ পার্থপ্রতিম; ১২ জানুয়ারি ২০০৮; উত্তরবঙ্গ সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত
জলপাইয়ে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং পলিফেনল যৌগগুলির সন্মিলিত পরিচর্যায় হাঁপানি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রুম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের বাড়াবাড়ি কমে। মেনোপজ অধ্যায়ে ঢুকে পড়া মহিলাদের কান-মাথা গরম হয়ে ওঠার মতো উপসর্গও হ্রাস করে ভিটামিন ই। জলপাইয়ে অনেকটা আয়রন থাকে। অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন যাঁরা একটা দুটো করে জলপাই খান। কাঁচা-পাকা খেতে পারেন না হলে আচার।
অলিভ তথা জলপাইয়ে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ৭৫ শতাংশই অলিক অ্যাসিড। এই অলিক অ্যাসিড। এই অলিক অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাধিক্য হ্রাস করে। ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় তট অঞ্চলের মানুষরা জলপাই এবং জলপাই-তেল খেতেন। রোগভোগ হত না। বাঁচতেন বেশিদিন। জলপাই তেতো হয় এটির ত্বকে গ্লাইকোসাইড অলিওরোপিন নামে একটি যৌগ জমা হওয়ার কারণে। কেটে নুন দিয়ে সরষের তেলে ভিজিয়ে রাখলে এই তেতোভাব কেটে যায়। বাইবেলে জলপাইয়ের উল্লেখ রয়েছে। গ্রিক পুরাণে, মিশরের শিল্পকলায় জলপাইয়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। জলপাই মানুষের জন্য পরম উপকারী খাবার হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল তাও পাঁচ হাজার বছর তো হয়েই গেল।
ফ্যাটি অ্যাসিডের শেকল তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে অ্যাড্রিনোলিউকোডিসট্রফি নামে এক ধরনের রোগ হয়। এই রোগে যেটা হয়, ফ্যাটি অ্যাসিডের শেকল মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটার তথা মাইলিনকে ধ্বংস করে। আশি শতাংশ অলিক অ্যাসিড এবং কুড়ি শতাংশ ইউরিক অ্যাসিড মিলিয়ে তৈরি করা হয় মাইলিন ধ্বংস হওয়া রুখতে পারে এমন ওষুধ। উল্লেখ্য, হোয়াইট ম্যাটারের কাজ হল মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ডের সঙ্গে শরীরের বাকি অংশ ও ঘিলুর যোগাযোগ রক্ষা করা। জলপাইয়ের মধ্যে এই অলিক অ্যাসিড কতটা মেলে তা তো আগেই জানা হয়ে গিয়েছে।
১৩৪.৪০ গ্রাম জলপাইয়ে আয়রন থাকে ৪.৪৪ মিলিগ্রাম। ভিটামিন ই থাকে ৪.০৩ মিলিগ্রাম। খাদ্যআঁশ ৪.৩০ গ্রাম। প্রোটিন ১.১৩ গ্রাম। মোট ফ্যাট থাকে ১৪.৩৫ গ্রাম। তার মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ১.৯০ গ্রাম। মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ১০.৬০ গ্রাম। পলিস্যাচুরেটেডে ফ্যাট ১.২ গ্রাম। অ্যাশ থাকে ৩ গ্রাম। কার্বোহাইড্রেট ৮.৪১ গ্রাম। সেলেনিয়াম ১.২১ মাইক্রোগ্রাম। ভিটামিন কে ১.৮৮ মাইক্রোগ্রাম। ক্যালসিয়াম ১১৮.২৭ মিলিগ্রাম। সোডিয়াম ১১৭১.৯৭ মিলিগ্রাম। পটাসিয়াম ১০.৭৫ মিলিগ্রাম। ভিটামিন সি ১.২১ মিলিগ্রাম। ম্যাগনেসিয়াম ৫.৩৮ মিলিগ্রাম। ফসফরাস ৪.০৩ মিলিগ্রাম। এছাড়া থাকে কপার, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, বি থ্রি, বি সিক্স, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ০.০৯ গ্রাম। ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড ১.১৪ গ্রাম।
কুমড়োর ফুলে
কুমড়োর ফুলে অনেকটা ক্যালসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম ফুলে ১২০ মিলিগ্রাম। এছাড়া প্রোটিন থাকে ২.২ গ্রাম। ফ্যাট ০.৮ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ১.৪ গ্রাম। খাদ্যআঁশ ০.৭ গ্রাম। কার্বোহাইড্রেট ৫.৮ গ্রাম। ফসফরাস ৬০ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রামে শক্তি ৩৯ ক্যালোরি।